drsajalsur

ল্যাজ খসা হনু

চামড়া পিঠের লাল হতো রোজ হাতের তালু ফুলতো বেশ,সেই কারণেই হস্ত নামক অস্ত্র প্রয়োগ ঘটলো শেষ!এর ফলাফল আশাব্যঞ্জক এমন ভাবার কারণ কম,খুন্তি হাতা ডালের কাঁটা ঐ পিঠেতেই ফেলল দম।সকাল দুপুর তবলা বাজে ছাতের তলা পক্ষীহীন,চামড়া পিঠের গুটায় তবু আচার চুরির অন্ত ক্ষীণ।গ্রীষ্ম ছুটির লম্বা বেলা ধীর পায়েতে সন্ধ্যা হয়,বিজলি বাতির অভাব কিন্তু ভূতের ভয়ও বেবাক জয়!ঝড়ের রাতে আম তলাতে পকেট ভরে গুচ্ছ আম,ফিরলে নালিশ বাবার পালিশ পিঠই বালিশ চুকতো কাম।এমনি করেই চলছিল দিন এমনি করেই গড়ায় রাত,ভাবছো বুঝি দয়া মায়া কিছুই কি আর দেয় না সাথ?তবে তোমায় সত্যি বলি পড়তে বসে ঢুললে রোজ,রাতের বেলায় ঐ হাত আবার নরম হয়েই করতো খোঁজ।চোখে তখন ঘুমের নেশা খিদেও পেটে জবর খুব,ভাবি আমি নিজের থেকেই খাবার মুখে দেয় কি ডুব?গভীর রাতে দেহের ক্ষতে ধরলে জ্বালা মনের দুখ,হাত পাখা কি নিজের থেকেই আনতো বাতাস, শীতল সুখ?কোলের কাছে মিষ্টি সুবাস আলতো আদর আরাম চুল,আকাশ থেকে একাই নেমে আসতো ঘরে? এতই ভুল?মোটেই তা নয়, এখন বুঝি, দস্যিপণা অতীত আজ,মা রা সবাই এমনই হন, তাই তো হনুর খসলো ল্যাজ।

ল্যাজ খসা হনু Read More »

হারানো ভালোবাসা

ধরা যাক তার নামটা না হয় সূর্য ছিল রাখা –শুধুই তো নাম, তাতে কি আর আসে এবং যায়?আরও একটা নাম না হয় এমন করেই ধরি,সে নাম না হয় ভাসতে থাকুক রূপসী রূপসায়! আলাপ হল ছেলেবেলার স্কুলের সহজ পাঠে-সে সব পড়া কী আর কারো অনেক দিন আর থাকে?চার ক্লাসেতেই সহজ পাঠের তাই হয়েছে ছুটি,দুটো জীবন, পৃথক পাঠের , কে আর মনে রাখে! পড়াশোনা নিজের মতো আরও বছর ছয়-আলাদা স্কুল, এগারো ঘর আসলে হঠাৎ দেখা,পড়ার লড়াই স্কুলে স্কুলে, এক কিশোরের মনে,চোখের দেখায় রূপসা আগের ঢেউ তুলে যায় একা! নদী সে তো কতোই আছে ভালোবাসায় বয়-রূপসা নদীর সে সব দিকে খেয়াল ছিল নাকি?একলা স্রোতে শুধুই নদীর আপন খেয়াল মন,কিশোর চোখে রূপসা বসে, উথাল পাথাল দেখি। ইচ্ছেরা সব বড্ডো লাজুক রূপসা যেদিন বোঝে-প্রেমের কিশোর ভোরের বেলায় ফুলের ডালি আনে,একটা চিঠি ফুলের সাথে সিঁড়ির পরে রাখা,‘ভালোবাসা তোর পায়েতে, চাইলে রাখিস মনে’! হারিয়ে গেল ভালোবাসা রূপসা একাই বয়-সুনীল আকাশ, সবুজ বাতাস, ডানায় ওড়া পাখি,সেই কিশোরের চিঠিও হারায় দ্বন্দ্ব ক্ষণিক রেখে,‘হারিয়ে আমি যাচ্ছি একা, থাকিস রে তু্ই সুখী’। সূর্য ওঠে সূর্য ডোবে দিনের পরে রাত-মাসের পরে বছর ঘোরে স্কুলের পাঠের শেষে,আরও জ্ঞানের অমোঘ টানে রূপসা তখন একা,এমনি করেই নদীর বুকে অন্য নাবিক আসে । ধরেই নিলাম নামটা না হয় চন্দ্র সদাগর-সপ্তডিঙা উড়িয়ে পালে রূপসা বুকে এসে,একই পানে ভাসতে চেয়ে নোঙ্গর করে তরী,ইচ্ছে মনের ব্যক্ত করে অল্প কথার বেশে! আমার নদী বড্ডো পাগল বইবে একা একা,নিজের খেয়াল নিজের খুশি, বাঁধতে না চায় পথে,দুয়ার খোলা সপ্তডিঙা, সওদাগরের আশাহার মেনে যায়, রূপসা একাই ভাসে নিজের স্রোতে। সব নদীরাই সাগর খোঁজে রূপসা শুধুই চলে,গহীন বনের সবুজ বুকে অজানা এক পথ,সূর্য চাঁদের বাঁধন পাশে হারতে নারি গতি,ভালোবাসার শিকল যদি ভাঙে স্বপন রথ? আমি চিনি রূপসা ধারা, আমায় সে আজ বোঝে,তার চলার পথেই খোঁজ নিয়ে তাই দিব্যি আমি থাকি,শেষ বিকেলের আলোয় এখন দু’দন্ড রোজ বসে,আমি হিসেব মেলাই, রূপসা কথা মালায় গেঁথে রাখি। রূপসা আমার ইচ্ছামতী আপন খুশির নদী-রূপসা আমার সৃষ্টিছাড়া অবুঝ জলের ধারা-রূপসা আমার নিয়ম ভাঙ্গা সহজপাঠের মন-রূপসা আমার ভালোবাসা না যায় তাকে পড়া। এমন কিছু রূপসা যদি তোমার খোঁজে থাকে,আজও যারা এই কবিতায় বইছে কাছাকাছি,গল্প তোমার আমায় লিখো খোলা পাতায় চিঠি,পাঠিয়ে দিও আমার ডাকে, অপেক্ষাতেই আছি।

হারানো ভালোবাসা Read More »

ঘাটতি

আমি গ্রামের দিকে যাই সপ্তাহান্তে। সেখানে গাছপালা খুবই বেশি। তাল, সুপারি আর নারকেল বাদ দিলে বাকি সব গাছে ডালপালাও মেলা। এখানকার দুচারটে পড়াশোনা করা মানুষ ছাড়া বাকিদেরও তাই বয়সের অগুন্তি ডালপালা । এত গাছগাছালি যখন তখন তাদের সাথে মানুষের গা ঘষাঘষির আন্তরিকতাও বেশি হওয়ারই কথা।একইসাথে এখানে যাহা বাহান্ন তাহাই বাহাত্তর – সবই এক।কানের রোগী। বয়স বাহান্ন । এটা কাগজে লিখেও মনটা খচখচ করছিল। আসলে সামনের ‘বৃদ্ধা’কে একটু আগে জিজ্ঞাসা করেছিলাম,-বয়স কত?উনি বললেন,-আন্দাজ করে একটা দিয়ে দাও।আমি মুখ আর চেহারার দিকে আরও একবার চেয়ে বললাম,-বাহাত্তর দিই?উনি বললেন,-এত দেবে? বড্ড বেশি হচ্ছে । এট্টু কমায়ে দাও। বাহান্ন করো বাবা।গ্রামের মানুষের বয়স সময়ের কড়াইতে নিজের ইচ্ছেয় ওলোটপালোট খায়। যাহা বাহান্ন তাহাই বাহাত্তর। এখানে সবই তেলের পিঠে। ঠিকঠাক একটু উল্টেপাল্টে নিতে পারলেই সুস্বাদু । মানে মেজাজ বাহান্ন হলেও বয়স হয়তো বাহাত্তর অথবা বয়স বাহান্ন হলেও মেজাজটা উল্টো।যা হোক, বাহাত্তরের বুড়িমা বাহান্নর মেজাজে আমার সামনে কানের সমস্যা নিয়ে বসে এক বিচিত্র ফিরিস্তি দিয়ে বসলেন আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই। সেটাই এখানে বলার উদ্দেশ্য এবং বলি।উনি শুরু করলেন,-আমার সব কথা শুনতি হবে কিন্তু। অনেক চিকিৎসে করেছি কান নিয়ে কিন্তু কিছুতেই তো কেউ কিছু করতি পারল না। আমার কথা শেষ হলি তুমি আমারে বলবা কেন এমন হল। সারল না কেন আমার কান। ছাতি আর ব্যথার অসুখ ছাড়া শীতের দিনে ডাক্তারদের সামনে রোগীর চাপ হালকা হয়। রোগী লেপের গর্ত ছেড়ে ডাক্তারের ফাঁদে ফাঁসে না। শীতেই তাই চিকিৎসা সম্মেলনগুলো হয় এ দেশে। সময় থাকে বলে শীতে রোগীর সাথে গল্পও জমে বেশি।আমি পেনের ঢাকনা বন্ধ করে বললাম ,-অনেক বছর তো পড়াশোনা আর চিকিৎসা করলাম। বল তোমার কথা। চিকিৎসা গলদ কোথায় শুনে বলছি।উনি বললেন,-তাইতো খবর পেয়ে এলাম। কান চুলকানি আমার। অসহ্য চুলকানি। হাতের কাছে যা পাই তাই দিয়ে চুলকাই। কাপড়ের আঁচল পাকায়ে দিই। ‘সেফটিন’ পুরি কানে। কাগজ, পানের বোঁটা, ঝাঁটার কাঠি- সব। চুলকে চুলকেও চুলকানি কমে না। শেষে গেরামের অনেক ডাকতার দেখালাম। একজন বললো , ডাবের পানি কানের ভিতর পুরে কাত হয়ি শুয়ে থাকতি। টানা একদিন। তা আমি তিনদিন শোলাম। কিছুই হল না। একজন বলল কাঁচা হলুদ আর পানের পাতা একসাথে থেঁতো করে তার রস ওর খোলে পুরতি। সে দিয়েও কিছু হল না। রসুন তেল গরম করি দেলাম। থানকুনি আর কালমেঘ পাতা বেটে পুরিয়া মতো বানায়ে একজন পুরে দিল দুই কানের ফুটোয়। তিন দিন রাখলাম। সে সব্বনেশে চুলকানি কমলো তো নাই উল্টে আরও বেড়ি গেল। কানে দু দুটো মাদুলি লাগলাম। সুতো সমেত মাদুলি ছিঁড়ে পড়ে গেলি নাকি ওর সাথে চুলকুনিও বিদেয় নেবে। ঘোড়ার ডিম হল। একজন কান ঝাড়ায়ে বলল চন্দন লাগাতি। তা কমলাদি নিজে চন্দন বেটি কানের খোলে ফোঁটা দিল সাত দিন। শেষে আর না পেরি তোমার কথা শুনে এখেনে এলাম। শোনলাম তুমি বড় ডাক্তার। তোমারে বলতি হবে, আমি এত কষ্ট করলাম, পয়সা খরচা করি ছুটে মরলাম, আমার চুলকুনি কমলো না কেন এতে? বলতি পারলি বোঝবো তুমি চাঁদ পড়াশোনা ঠিকমতো করেছো। আমার পয়সা আর এভাবে নষ্ট কোরো না বাপ্। চাঁদ আকাশে থাকে। ভাগ্যবান শুনেছি হাতে চাঁদ পায়। কেউ আমাকে চাঁদ বলে কখনো ডাকেনি আগে। কিন্তু এখন সে ডাক শুনেও হতভম্ব আমি মুখখানা অমাবস্যার চাঁদের মতো করে আমার রোগীর দিকে চেয়ে রইলাম। আমার পড়াশোনার বড় ঘাটতিটা বাহান্ন মনের বাহাত্তরের রোগী এক পলকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আর আমি চুপচাপ গালে হাত দিয়ে বসে থাকলাম।বিশুটাও আজকাল ফচকে হয়ে যাচ্ছে। দেখলাম সে হতচ্ছাড়া ওর স্যারের অবস্থা দেখে মুখ টিপে টিপে হাসছে। drsajalsur March 7, 2024 No Comments Nextহারানো ভালোবাসাNext

ঘাটতি Read More »

error: Content is protected !!
Scroll to Top